সোলার নিয়ে খোঁজ শুরু করলেই এই তিনটে শব্দ শুনবেন। কোনটা কী, একদম সহজ ভাষায়।
সোলার নিয়ে খোঁজ শুরু করলেই তিনটে শব্দ বারবার আসে — অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড, হাইব্রিড। বিক্রেতারা প্রায়ই পার্থক্য স্পষ্ট করে বলেন না, কারণ যেটা তাঁদের কাছে বেশি আছে সেটাই বিক্রি করতে চান। নিচে একদম গোড়া থেকে বোঝানো হলো, কোনটা আসলে কার জন্য।
এই সিস্টেমে সোলার প্যানেল সরাসরি আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন ও সরকারি গ্রিডের (WBSEDCL/CESC) সঙ্গে যুক্ত থাকে। ব্যাটারি লাগে না। দিনে প্যানেল যা বিদ্যুৎ বানায় তা প্রথমে বাড়িতে ব্যবহার হয়, বাড়তি অংশ গ্রিডে চলে যায় — এটাই নেট মিটারিং। রাতে বা মেঘলা দিনে গ্রিড থেকেই বিদ্যুৎ নেন, আর বিলের হিসাব দুটোর পার্থক্য দিয়ে হয়।
শহর ও শহরতলির বেশিরভাগ বাড়ি, যেখানে গ্রিড সংযোগ মোটামুটি নির্ভরযোগ্য, তাদের জন্য এটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প।
এখানে গ্রিডের সঙ্গে কোনো সংযোগ থাকে না। প্যানেলের বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হয়, আর সেই ব্যাটারি থেকেই বাড়ির সব বিদ্যুৎ চলে। যেখানে গ্রিড সংযোগ নেই বা খুব অনিয়মিত (দূরের গ্রাম, খামারবাড়ি), সেখানে এটাই একমাত্র উপায়।
হাইব্রিড হলো দুটোর মিশ্রণ — গ্রিডের সঙ্গেও যুক্ত থাকে, আবার ব্যাটারিও থাকে। দিনে সোলার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, বাড়তি অংশ ব্যাটারিতে জমা হয় (গ্রিডে পাঠানোর বদলে বা সাথে সাথে), আর লোডশেডিং হলে ব্যাটারি থেকে বাড়ি চলে — গ্রিড বন্ধ থাকলেও।
মনে রাখবেন: হাইব্রিড ইনভার্টার ও ব্যাটারি — দুটোই বাড়তি খরচ। এটা তখনই যুক্তিসঙ্গত যখন লোডশেডিং সত্যিই ঘনঘন হয় এবং সেই সময়টায় বিদ্যুৎ না থাকলে বড় সমস্যা হয় (যেমন হোম অফিস, মেডিকেল যন্ত্রপাতি)।
দ্রষ্টব্য: ভর্তুকির নিয়ম ও সিস্টেমের দাম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে pmsuryaghar.gov.in ও আপনার DISCOM-এর সঙ্গে যাচাই করে নিন।
সাধারণত ভর্তুকি অন-গ্রিড অংশের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, কিন্তু ব্যাটারির খরচ ভর্তুকির বাইরে থাকে। installer ও DISCOM-এর সঙ্গে নির্দিষ্ট করে যাচাই করে নেওয়া ভালো, কারণ নিয়ম বদলাতে পারে।
কিছু ইনভার্টার হাইব্রিড-রেডি হয়, কিছু নয়। প্যানেল কেনার আগেই ভবিষ্যতে ব্যাটারি লাগানোর পরিকল্পনা থাকলে, সেই কথা installer-কে জানিয়ে হাইব্রিড-কমপ্যাটিবল ইনভার্টার বেছে নেওয়া ভালো — পরে বদলাতে বাড়তি খরচ হয়।
এটা নিরাপত্তার নিয়ম (anti-islanding)। লাইনে কাজ করা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য, গ্রিড বন্ধ থাকলে সোলার সিস্টেমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যাতে লাইনে অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ না থাকে।
এই বিষয়ে বা সোলারের যেকোনো প্রশ্ন — হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন।
হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন