বিনামূল্যে গাইড

সোলার নেওয়ার আগে যা জানা দরকার

ভর্তুকি, খরচ, net metering, ব্যাটারি — সব সহজ বাংলায়। installer-এর কাছে যাওয়ার আগে একবার পড়ে নিন, যাতে কেউ আপনাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

1. ভর্তুকি আসলে কীভাবে আসে

সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা: অনেকে ভাবেন ভর্তুকি মানে installer-এর বিল থেকে সরাসরি ছাড়। তা নয়। আপনি প্রথমে পুরো খরচ দেন (নিজের টাকা বা লোন)। সিস্টেম বসে যাওয়ার পর, DISCOM পরিদর্শন করে net meter লাগায়, তখন commissioning রিপোর্ট জমা পড়ে — এরপর ভর্তুকির টাকা সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে, সাধারণত 30 দিনের মধ্যে।

ভর্তুকির পরিমাণ (PM Surya Ghar): 1 কিলোওয়াটে ₹30,000, 2 কিলোওয়াটে ₹60,000, আর 3 কিলোওয়াট ও তার বেশিতে সর্বোচ্চ ₹78,000। এটা একবারের টাকা — প্রতি মাসে নয়।

মনে রাখবেন: 3 কিলোওয়াটের পরে ভর্তুকি আর বাড়ে না। 5 কিলোওয়াট বসালেও ভর্তুকি সেই ₹78,000-ই।

2. খরচ কত, কত বছরে উঠবে

খরচ একটা একবারের installation খরচ, প্রতি কিলোওয়াট হিসাবে ধরা হয় — বার্ষিক বা মাসিক নয়। 2026-এ মোটামুটি প্রতি কিলোওয়াটে ₹65,000–80,000 (ভর্তুকির আগে)।

উদাহরণ: একটা 3 কিলোওয়াট সিস্টেমের দাম প্রায় ₹1.65–2.4 লাখ (ভর্তুকির আগে)। ₹78,000 ভর্তুকির পরে আসল খরচ দাঁড়ায় প্রায় ₹90,000–1.6 লাখ। সাধারণত 3–4 বছরে পুরো খরচ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে উঠে আসে, তারপর বছরের পর বছর সঞ্চয়।

3. কত বড় সিস্টেম দরকার

সিস্টেমের সাইজ নির্ভর করে আপনার বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর — সবার জন্য এক নয়। মোটামুটি হিসাব: পশ্চিমবঙ্গের রোদে 1 কিলোওয়াট প্যানেল দিনে প্রায় 4 ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরি করে। জায়গা লাগে প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় 80–100 বর্গফুট ছায়াহীন ছাদ।

নতুন বাড়ি, এখনও বিল নেই? তখন যন্ত্রের তালিকা (AC, ফ্রিজ, পাম্প ইত্যাদি) থেকে চাহিদা হিসাব করা হয়। মনে রাখবেন — প্রয়োজনের চেয়ে বড় সিস্টেম বসালে বাড়তি কিলোওয়াটে কোনো ভর্তুকি নেই, শুধু খরচই বাড়ে।

4. Net metering — গ্রিডই আপনার ব্যাটারি

সোলার বসানো বাড়ি সবসময় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দিনে বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে চলে যায় আর ইউনিট হিসেবে জমা হয়; রাতে বা মেঘলা দিনে দরকার হলে গ্রিড থেকে টেনে নেওয়া হয়। বিল হয় শুধু নিট (আমদানি বিয়োগ রপ্তানি) হিসাবে।

সোজা কথায়, net metering গ্রিডটাকে একটা বিনামূল্যের ভার্চুয়াল ব্যাটারি বানিয়ে দেয় — রোদে জমান, দরকারে খরচ করেন। ভর্তুকি পেতে হলে net metering বাধ্যতামূলক।

5. ব্যাটারি লাগবে কি না

গ্রিড ঠিকঠাক থাকলে বেশিরভাগ বাড়িতে ব্যাটারি লাগে না। net metering + গ্রিড রাত আর মেঘলা দিন সামলে দেয়, আর ব্যাটারি বাদ দিলে অনেক টাকা বাঁচে।

ব্যাটারি দরকার শুধু তখনই, যখন লক্ষ্য power cut-এ backup। সাধারণ grid-tied সিস্টেম গ্রিড চলে গেলে নিরাপত্তার কারণে বন্ধ হয়ে যায় — তাই ঘন ঘন লোডশেডিং হলে ব্যাটারিসহ (hybrid) সিস্টেম লাগে, যা দামি।

6. "শূন্য বিল" কেন সবসময় হয় না

"শূন্য বিল" সেরা ক্ষেত্রে হয়, নিশ্চয়তা নয়। গ্রিড থেকে যতটুকু নিট বিদ্যুৎ নেবেন তার জন্য ছোট বিল আসতে পারে, আর বেশিরভাগ DISCOM প্রতি মাসে একটা ছোট নির্দিষ্ট চার্জ নেয়, বিদ্যুৎ ব্যবহার শূন্য হলেও।

সৎ কথা: গ্রাহককে বলুন "বিল অনেক কমবে, প্রায়ই শূন্যের কাছাকাছি" — কখনও "একদম বিল আসবে না" নয়।

7. বিদ্যুৎ বেচে কি আয় হয়?

বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে গেলে তা টাকা নয়, ইউনিট ক্রেডিট হিসেবে জমা হয়, যা পরে আপনার আমদানি করা ইউনিটের সঙ্গে কাটাকুটি হয়। বছরের শেষে যা বাড়তি থাকে, তা সাধারণত খুব কম দরে কেনা হয়, বা লুপ্ত হয়ে যায়। net metering আবার সাধারণত sanctioned load-এ সীমাবদ্ধ।

তাই নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বড় সিস্টেম বসিয়ে "আয়" করার চেষ্টা সাধারণত খারাপ বিনিয়োগ। সাইজ ঠিক করুন চাহিদা অনুযায়ী, ভর্তুকি বাড়ানোর জন্য নয়।

আপনার নিজের বাড়ির হিসাব চান?

সাধারণ নিয়ম তো জানলেন — এবার আপনার বিল ও ছাদ দেখে নির্দিষ্ট হিসাব নিন।